
তামিম ইকবাল কতটুকু শঙ্কামুক্ত?
ডেস্ক নিউজ:
গাজীপুরের একটি হাসপাতালে জরুরিভাবে হার্টে রিং স্থাপনের পর জ্ঞান ফিরেছে তামিমের
ক্রিকেট বাংলাদেশ দলের তারুণ্যের উজ্জীবিত নাম তামিম ইকবাল এখন আশঙ্কামুক্ত। রাজধানীর অদূরে সাভারের এক হাসপাতালে জরুরিভাবে তার হৃদযন্ত্রে সফলভাবে রিং পরানো সম্পন্ন হওয়ায় ফিরলেন জীবনের গতিতে। হৃদ অ্যাটাকের পর অচেতন হয়ে পড়লে ডা. জামান মারুফের নেতৃত্ব প্রাণরক্ষাকারী সিপিআর এবং ডিসি সেবা একজন দেশবরেণ্য ক্রিকেটার তামিম ইকবালের জীবনকে ঝুঁকিমুক্ত করলেন। তার বামদিকের অন্যতম রক্তনালী ১০০ ভাগ বন্ধ হয়ে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ও রক্তপ্রবাহ করতে না পারায় তিনি প্রচণ্ড ব্যথা নিয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। অকার্যকর হয়ে পড়ে তার শরীরের মূল রক্তনালীটি।
সেই জটিল অবস্থা থেকে তাকে ফিরিয়ে এনেছেন সেই গুণী ও সাহসী চিকিৎসক ডা. জামান মারুফ। সেই সময়ের সাহসী চিকিৎসক জামান মারুককে অভিনন্দন। তামিম ইকবাল এখন লাইফ সাপোর্টে ভেন্টিলেশনের বাইরে যন্ত্রের সাহায্য ছাড়াই শ্বাস নিচ্ছেন! পরম করুণাময়ের অশেষ কৃপা।
জীবনে প্রাণের স্পন্দন দানের মালিক পরম করুণাময়। তথাপিও আজ বাংলাদেশের এক হাসপাতাল দেশের স্বনামখ্যাত ক্রিকেটারের হৃদযন্ত্রে সফল রিং স্থাপন ও প্রাণঘাতি হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকের হাত থেকে রক্ষায় এক গৌরবের অংশীদার হল। ঢাকার ফাইভ স্টার হাসপাতালের বাইরে অদূর সাভারের এক হাসপাতাল। গাজীপুর তেতুইবাড়ি, কাশিমপুরে “কামপুলান পেরুতান জহর” বা “কেপিজে” হাসপাতাল হিসেবে সাম্প্রতিক নামকরণ করা হয়েছে, যা বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল “কেপিজে” হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিল। এই হাসপাতালে কর্মরত ডা. জামান মারুফ এদেশের হৃদরোগের মতো জরুরি চিকিৎসাদানকারী এক সফল নায়ক। তিনি সাহস ও উদ্যমী হয়ে ভিভিআইপি তামিম ইকবালের মতো রোগীকে সাহসের সাথে জীবনের খু্ব মূল্যবান সময়ে সিপিআর ও ডিসি এর জরুরি সেবা দিতে তামিমের জীবনকে সেভ করেছেন।
ডা. জামান মারুফ ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের কার্ডিওলজির অধ্যাপক ডা. এম জি আজমের দূর থেকে তার এক সময়ের এই শিক্ষার্থী চিকিৎসককে নিয়ে দারুণ গর্বিত হয়ে এই প্রতিবেদকের কাছে বর্ণনা করেন। ঘটনার বর্ণনায় তিনি জানান, ঢাকার অদূরে সাভারে অবস্থিত বিকেএসপিতে প্রিমিয়ার লিগ খেলার সময় তামিম ইকবাল বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন এবং মাঠেই বসে পড়েন। তার স্বজনেরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টার যোগে ঢাকায় পাঠানোর উদ্যোগ নেন।
চিকিৎসা বিজ্ঞানে হৃদরোগে আক্রান্তদের সময়মতো সিপিআর ও ডিসি দিয়ে অকার্যকর হৃদযন্ত্রকে সচল করা খুবই জরুরি। এদেশের প্রত্যন্তে কমিউনিটি ক্লিনিক ও হাসপাতালে হার্ট অ্যাটাকে পতিত যেকাউকে প্রাথমিক চিকিৎসার আওতায় আনা এদেশে এক বড় চ্যালেঞ্জ। প্রাথমিকভাবে হার্ট অ্যাটাকের পর আক্রান্ত জীবনকে ফের জাগাতে দরকার হয় প্রাইমারি পিসিআই এবং DC” direct current (electricity)। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেশের প্রত্যন্তে সেই সুযোগ থাকে না। ফলে আক্রান্তদের বেশিরভাগকেই বাঁচানো সম্ভব হয় না।
তামিম ইকবালের ক্ষেত্রে প্রথমত সেই বিষয়টি ঘটেনি। তবে বিপদ হতে পারতো, কর্তৃপক্ষের তরফে তাকে হেলিকপ্টার যোগে ঢাকায় পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে হেলিকপ্টারে তোলার পর উড্ডয়নের আগেই তামিমের ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক হয়। ফলে তাকে ঢাকায় এনে চিকিৎসা দেওয়ার আর কোন সুযোগ ছিল না।
তবে তামিম ইকবাল ভাগ্যবান তাকে সঠিক সিদ্ধান্তে সময় নষ্ট না করে দ্রুতই নেওয়া হয় গাজীপুরের কেপিজে হাসপাতালে।
জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সাবেক অধ্যাপক বর্তমানে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত কার্ডিওলজির চিকিৎসক ডা. এম জে আজম জানান, তামিম ম্যাসিভ হার্ট এটাকের জন্য অজ্ঞান হয়ে গেলে দ্রুত সাভারের নবীনগরে KPJ Specialized Hospital এ নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কার্ডিয়াক টিম অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ২২ মিনিট সিপিআর (CPR) ও ৩ বার শক ( DC shock) দিয়ে এনজিওগ্রাম করার পর LCX রক্তনালীতে ১০০% বন্ধ রক্তনালী খুলে দেয়। ( Primary PCI strategy হিসাবে রক্ত নালী LCX এ3.5×18 mm coronary stent পরানো হয়)। এখন মোটামুটি স্টেবল আছে।
বাংলাদেশে হৃদরোগজনিত মৃত্যু কমাতে বহুদিন ধরেই চেষ্টা চলছে। মূলত দেশের প্রত্যন্তে উপজেলা পর্যায়ে জরুরি অবস্থায় হার্ট সচল করে রোগীর জীবন রক্ষা করা এবং পরবর্তীতে রক্তনালীগুলোকে সচল করে রোগীকে স্থায়ীভাবে সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখার জন্য প্রত্যেন্তর হাসপাতালে অবকাঠামোতে হার্ট অ্যাটাক জনিত চিকিৎসায় PPCI-এর দক্ষ জনবল নিয়োগ ও ক্যাথ লাব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ঢাকায় হার্ট অ্যাটাক জনিত রোগীর চাপ কমানো সম্ভব। সর্বোপরি ঢাকার ফাইভ স্টার হাসপাতালেই ভর্তি ও রিং পরানো বা আর কোন পদ্ধতিতে জরুরি প্রাণদানকারী জরুরি সেবার তথাকথিত সীমাবদ্ধতা কাটানো সম্ভব।
ঢাকার বাইরের এক হাসপাতালে তামিম ইকবালের জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসায় সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ Dr M Zaman Maruf। অভিনন্দন মারুফ।
বাংলাদেশের চিকিৎসকগণ তাদের আন্তরিকতা দিয়ে, মেধা দিয়ে এই সব জটিল রোগের চিকিৎসা করে থাকেন। জয়তু বাংলাদেশের হৃদরোগ চিকিৎসায় নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসক ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা। ক্রিকেটার তামিম ইকবালের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।
+ There are no comments
Add yours