আন্তর্জাতিক:
ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের যুদ্ধে নিজেদের বিজয়ী দাবি করেছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির নামে প্রচারিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শত্রুপক্ষের হামলা সত্ত্বেও ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এই যুদ্ধে ‘বড় বিজয়’ পেয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন কৌশলের ইঙ্গিতও দিয়েছে তেহরান।
রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তাসংস্থা তাস জানিয়েছে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের যুদ্ধে শত্রুপক্ষের হামলা ও বোমাবর্ষণে ক্ষয়ক্ষতি হলেও ইরান শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়েছে— এমনটাই দাবি করা হয়েছে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির নামে প্রচারিত এক বিবৃতিতে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এই বিবৃতি প্রচারিত হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘শত্রুর হামলা ও আঘাত সত্ত্বেও আমাদের সশস্ত্র বাহিনী এই যুদ্ধকে এক মহান বিজয়ে পরিণত করেছে’। এই বিবৃতিটি দেয়া হয় সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর ৪০তম দিনে। এতে দেশটির জনগণকে গত ৪০ দিনের মতোই ইরানের শহরগুলোতে মিছিল ও বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসলামাবাদে আসন্ন আলোচনায় ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবই প্রধান বিষয় হয়ে উঠতে পারে। এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি, কে এই বৈঠকে প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন।
তবে আলোচনার বিষয়বস্তু হিসেবে ইরান আগেই যুক্তরাষ্ট্রকে দেয়া ১০ দফা প্রস্তাবের ওপর ভিত্তি করে আলোচনা হবে বলে জানিয়েছে। অবশ্য দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য থাকায় আলোচনা সহজ হবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে, কারণ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে এই প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।
লেবাননসহ বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলার কারণে আঞ্চলিক প্রভাবের কিছু অংশ হারানোর পর ইরান এখন হরমুজ প্রণালিকে নিজেদের পক্ষে কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে। ইরানি কর্মকর্তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী তেলবাহী ট্যাঙ্কারসহ অন্যান্য জাহাজের ওপর শুল্ক আরোপের পরিকল্পনার কথাও বলছেন।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা শুরুর ৪২তম দিনে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, তিনি যত দ্রুত সম্ভব লেবাননের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার নির্দেশ দিয়েছেন।
মন্তব্য করুন