জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য আর নয়, কঠোর বার্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
মোঃ আমজাদ হোসেন, ষ্টাফ রিপোর্টার:
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে কোনো সন্ত্রাসী, ভূমিদস্যু কিংবা অপরাধী চক্রের অভয়ারণ্য থাকতে দেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করে যারা দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে এসেছে, তাদের বিরুদ্ধে সরকার সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।রোববার জঙ্গল সলিমপুর এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিগত বছরগুলোতে দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতি ও রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্রের ভেতরে একটি অপরাধকেন্দ্রিক কাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছিল। জঙ্গল সলিমপুর তারই একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর চট্টগ্রামে সংঘটিত একাধিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, ব্যবসায়ীদের ওপর হামলা, গুলি বর্ষণ ও চাঁদাবাজির ঘটনাকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করে।
তিনি জানান, গত ৯ মার্চ পরিচালিত যৌথ অভিযানের মাধ্যমে সন্ত্রাসীদের গড়ে তোলা সমান্তরাল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সিসিটিভি নেটওয়ার্ক, পাহারা ব্যবস্থা ও সন্ত্রাসী ঘাঁটি ধ্বংস করা হলেও তথ্য ফাঁসের কারণে কিছু শীর্ষ অপরাধী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, “রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে র্যাবের নির্মাণাধীন ক্যাম্প বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলার মতো দুঃসাহস সন্ত্রাসীরা কোথা থেকে পেল, তা গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। এর পেছনে জড়িত ভূমিদস্যু, অর্থদাতা ও মূল ইন্ধনদাতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। প্রকৃত বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করা হবে না এবং তাদের জন্য টেকসই পুনর্বাসনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। উচ্ছেদ সংক্রান্ত গুজব ও অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় মন্ত্রী জঙ্গল সলিমপুরকে মূলধারার উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করতে আধুনিক সড়ক নেটওয়ার্ক নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। সীতাকুণ্ড, ভাটিয়ারী, হাটহাজারী ও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে একটি সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রেস ব্রিফিংয়ে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির, বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীসহ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন