স্টাফ রিপোর্টার:
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ বলেছে, বাজেটের ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দেশের অর্থনীতিকে আরও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিতে পারে।
সংগঠনটির চেয়ারম্যান পীরে তরিকত আল্লামা ছৈয়দ বাহাদুর শাহ মোজাদ্দেদী এবং মহাসচিব (ভারপ্রাপ্ত) স. ম. হামেদ হোসাইন এক যৌথ বিবৃতিতে এ মন্তব্য করেন।
নেতৃদ্বয় বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে করের বোঝা বৃদ্ধির আশঙ্কায় সাধারণ জনগণ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি মোকাবিলা এবং কার্যকর অর্থনৈতিক সংস্কারের ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপের ঘাটতি রয়েছে। একইসঙ্গে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য কোনো সুস্পষ্ট রূপরেখাও দৃশ্যমান নয়।
তারা আরও বলেন, রাজস্ব আদায়ের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য মূল্যস্ফীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং ব্যাংকঋণনির্ভরতা বাড়িয়ে তুলতে পারে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও চলমান মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন থাকলেও বাজেটে তার কার্যকর সমাধান দেখা যাচ্ছে না।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় বরাদ্দ রাখা হলেও বর্তমান বাজার পরিস্থিতির তুলনায় তা যথেষ্ট নয়। এছাড়া অতীতের ধারাবাহিকতায় এবারও একটি ঘাটতি বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তারা।
ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের নেতারা বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার প্রেক্ষাপটে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হবে। ফলে ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়বে, যা অর্থনীতির জন্য নতুন ঝুঁকি সৃষ্টি করবে। এতে বাজেটের লক্ষ্য অর্জনও অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।
তারা ব্যাংকিং খাতে নৈরাজ্য, বিদেশে অর্থপাচার, খেলাপি ঋণ এবং শেয়ারবাজারসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক খাতের দুর্নীতি রোধে প্রস্তাবিত বাজেটে সন্তোষজনক ও শক্তিশালী পদক্ষেপের অভাব রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।

নেতৃদ্বয় আরও বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। পাশাপাশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় দূরদর্শী কৌশল এবং ব্যয়ের ক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ পরিকল্পনারও ঘাটতি রয়েছে বলে তারা মনে করেন।
মন্তব্য করুন