ডেস্ক নিউজ:
ইমামে দরবার শরিফের সাজ্জাদানসীন পীরে তরিকত আল্লামা ছৈয়দ বাহাদুর শাহ মোজাদ্দেদী বলেছেন- ইসলামের সংবিধিবদ্ধ রীতিনীতি, বিধি-বিধান সম্বলিত ঐশীগ্রন্থ পবিত্র আল কোরআন হচ্ছে তাবৎ বিশ্ববাসীর জন্য পথ নির্দেশক। পবিত্র কোরআনের মধ্যেই নিহিত রয়েছে সাম্য ও শান্তির ফল্গুধারা। কোরআন বিমূখতাই বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অন্তরায় বলে মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন- মুসলিম অধ্যুষিত এ বাংলাদেশে একটি চিহ্নিত মহল ইসলামকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে কোরআন বিরোধী নানাবিধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছ অবলীলায়। মব সন্ত্রাস, খুন-রাহাজানি তথা জঙ্গিবাদি অপতৎপরতার বিস্তার ঘটিয়ে বিশ্ব দরবারে এদেশকে একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে চিত্রিত করার ঘৃণ্য প্রয়াস অব্যাহত রেখেছে। এদের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার উপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত এর চেয়ারম্যান আল্লামা কাজী মঈনউদ্দীন আশরাফী বলেছেন- পবিত্র কোরআন হচ্ছে মানবজীবনের একটি পূর্ণাঙ্গ গাইড। যেটির মর্মবাণীর নিরবচ্ছিন্ন প্রচারের মাধ্যমে মহানবী (দ:) তৎকালীন সবচেয়ে বর্বর আরব জনগোষ্ঠিকে পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠতম সুশীল জাতিতে পরিণত করেছিলেন। প্রথিতযশা আলেমেদ্বীন মাহফিলের প্রধান মুফাসসির শায়খুল হাদিস অধ্যক্ষ আল্লামা জয়নুল আবেদীন জুবাইর সুরা হজ্ব এর দরস পেশ করতে গিয়ে বলেছেন
কোরআনের মাহাত্ন্য- গুরুত্ব উপেক্ষিত হওয়ায় মুসলিম কমিউনিটিতে অনৈক্য-বিভক্তি ও বিভাজন বর্ধিঞ্চু। যার নেতিবাচক পরিণতিতে ধর্মানুরাগী মানুষের একটি অংশ একদিকে ক্রমশঃ ভ্রষ্টতার দিকে ধাবিত হচ্ছে, অপরদিকে কোরআনে পরিপূর্ণভাবে নিষিদ্ধ এমন কতিপয় গর্হিত কাজকে পূণ্য হিসেবে মনে করছে । উপরন্তু সামাজিক জীবনে অভিশপ্ত জঙ্গিবাদসহ বিভিন্ন অবাঞ্ছিত ফেতনা বৃদ্ধি পাচ্ছে প্রতিনিয়ত। তাই পবিত্র ঐশীগ্রন্থের সঠিক চর্চা ও অনুশীলনের মাধ্যমে জাতীয় জীবনে একটি সুন্দর ও মানবিক সমাজ বিনির্মানের দ্বীপ্তপ্রত্যয় নিয়ে সকলেরই এগিয়ে আসার উপর তিনি গুরুত্বারোপ করন।
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত এর নির্বাহী চেয়ারম্যান পীরে তরিকত আল্লামা আবুল কাশেম নূরী বলেছেন- চলমান যুক্তরাষ্ট্র- ইসরাইল ও ইরান উত্তেজনা গোটা মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হচ্ছে। বাংলাদেশেও এর নেতিবাচক প্রভাব দৃশ্যমান। যা দ্রুত থামাতে বিশ্ব নেতৃত্বকে দায়িত্বশী ও সক্রিয় ভূমিকায় এগিয়ে আসতে হবে। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত এর মহাসচিব অধ্যাপক ড. সাইয়েদ আবদুল্লাহ আল মারুফ বলেছেন- যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের দখলদারিত্বের মতো নেতিবাচক মনোবৃত্তি, অন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদাসীনতা, পার্শবর্তী মুসলিম রাষ্ট্রসমূহের নামমাত্র প্রতিবাদ ও পদলেহী চরিত্র তথা পশ্চিমাদের কর্তৃক ইসরাইলকে অর্থ- অস্ত্র সহযোগিতার মতো বিষয়াদি এ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার অন্তরায়। তাই এর টেকসই সমাধানে জাতিসংঘ, ওআইসি আরব লীগকে দায়িত্বশীল ভূমিকায় এগিয়ে আসার জন্য আহবান জানান। বহুমূখী সেবাধর্মী সংস্থা আঞ্জুমানে খুদ্দামুন নাস বাংলাদেশ (একেএনবি) এর উদ্যোগে অদ্য ১৮ এপ্রিল’২৬ শনিবার বিকেল ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ২৩তম ঐতিহাসিক পবিত্র দরসুল কোরআন মাহফিলে বক্তারা উপরোক্ত মন্তব্য করেন। সংস্থার চেয়ারম্যান আল্লামা কাজী জসিম উদ্দিন এর সভাপতিত্বে মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান পীরে তরিকত আল্লামা ছৈয়দ বাহাদুর শাহ মোজাদ্দেদী। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত এর চেয়ারম্যান শায়খুল হাদিস আল্লামা কাজী মঈনউদ্দীন আশরাফী। প্রধান মুফাস্সির হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- চট্টগ্রাম নেছারীয়া কামিল (এম এ) মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ প্রথিতযশা আলেমেদ্বীন শায়খুল হাদিস আল্লামা জয়নুল আবেদীন জুবাইর।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন – আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত এর নির্বাহী চেয়ারম্যান পীরে তরিকত আল্লামা আবুল কাশেম নূরী, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত এর মহাসচিব অধ্যাপক ড. সাইয়েদ আবদুল্লাহ আল মারুফ। চট্টগ্রাম কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মুহাম্মদ মোজাহেদুল ইসলাম চৌধুরী। পীরে তরিকত শাহজাদা এনায়েত উল্লাহ খান, পীরে তরিকত আল্লামা সালাহ উদ্দীন লতিফী, পীরে তরিকত আল্লামা ছৈয়দ আতিকুল হক আনাস, পীরে তরিকত আল্লামা ফখরুদ্দীন চৌধুরী। বিষয় ভিত্তিক দরস পেশ করেন- পীরে তরিকত আল্লামা আবুল কাশেম নূরী, অধ্যক্ষ আল্লামা এস এম ফরিদ উদ্দিন, অধ্যক্ষ আল্লামা রফিক উদ্দীন সিদ্দিকী, অধ্যক্ষ আবুল ফারাহ মুহাম্মদ ফরিদ উদ্দীন, জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ এর খতিব আল্লামা ছৈয়দ কারী আবু তালেব মুহাম্মদ
আলাউদ্দিন, আল্লামা মুফতি শহিদুল ইসলাম। মাহফিলে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন-মাহফিল প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক স ম হামেদ হোসাইন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন- মাহফিল প্রস্তুতি কমিটির সচিব মাওলানা মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদ। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- অধ্যক্ষ এম ইব্রাহীম আখতারী,শায়খুল হাদিস আল্লামা আশেকুর রহমান আলকাদেরী, এস এম আবদুল করিম তারেক, অধ্যক্ষ ছৈয়দ মাওলানা আবু ছালেহ, অধ্যাপক সৈয়দ হাফেজ আহমদ, স ম শহিদুল হক ফারুকী, মাস্টার আনোয়ারুল আজিম, এ এস এম কাউসার, অধ্যক্ষ আল্লামা শামসুদ্দোহা, মাওলানা সেলিম উদ্দীন আনোয়ারী, মুফতি মাওলানা হেলাল উদ্দীন আলকাদেরী, মুফতি মাওলানা নিজাম উদ্দীন নোমানী, মাওলানা মহিউদ্দিন তাহেরী, মাওলানা মনির হোসেন, এম কফিল উদ্দীন রানা, ইসলামী ছাত্রসেনার কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদক মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম, পীরজাদা বদরুল হক চিশতী, পীরজাদা এরশাদুল্লাহ রজায়ী, মাওলানা কাজি শফিউল আজম, এইচ এম নাছির উদ্দীন, শায়খ মাওলানা জাহিদ কাদেরী, মাওলানা জিয়াউল হক বিপ্লবী, মাওলানা ওমর ফারুক নঈমী
মন্তব্য করুন