মো: আমজাদ হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার:
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা এলাকায় আবাসিক ভবনের নিচতলায় বিপুল পরিমাণ গ্যাস সিলিন্ডার অবৈধভাবে মজুদ রাখার অভিযোগে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা এনএসআই ও উপজেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে পরিচালিত এ অভিযানে একটি বসতবাড়ির নিচতলায় গড়ে তোলা ঝুঁকিপূর্ণ গোডাউনে হাজারেরও অধিক গ্যাস সিলিন্ডার মজুদের প্রমাণ পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় মেসার্স ইউনূস এন্টারপ্রাইজের মালিক সিরাজ সওদাগরকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করেন সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ ফখরুল ইসলাম। অভিযানে সীতাকুণ্ড মডেল থানার পুলিশের একটি টিম উপস্থিত ছিল।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, মেসার্স ইউনূস এন্টারপ্রাইজের নামে মাত্র ৪০টি গ্যাস সিলিন্ডার সংরক্ষণের অনুমোদন থাকলেও বাস্তবে একটি আবাসিক ভবনের নিচতলায় ১ হাজারেরও বেশি গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ রাখা হয়েছিল। বিষয়টি স্থানীয়দের জন্য ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঝুঁকি তৈরি করেছিল বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ ফখরুল ইসলাম বলেন,
“আমরা একটি গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এখানে অভিযান পরিচালনা করি। মেসার্স ইউনূস এন্টারপ্রাইজের যে লাইসেন্স রয়েছে সেই লাইসেন্স অনুযায়ী তিনি ৪০টির অধিক সিলিন্ডার মজুদ করতে পারেন না। তবে সরেজমিনে এসে দেখা গিয়েছে তিনি হাজারেরও অধিক গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ রেখেছেন, যা এলাকার মানুষদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সেই দিক বিবেচনা করে আইনের নির্দিষ্ট ধারায় মেসার্স ইউনূস এন্টারপ্রাইজকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন,
“প্রতিষ্ঠানটির মালিককে সর্বোচ্চ এক সপ্তাহের মধ্যে এই বসতবাড়ির গোডাউন থেকে সব গ্যাস সিলিন্ডার সরিয়ে নেওয়ার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় পরবর্তীতে আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, আবাসিক এলাকায় এভাবে বিপুল পরিমাণ গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ রাখা শুধু আইন লঙ্ঘনই নয়, এটি যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারত। তারা এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ অবৈধ গুদামের বিরুদ্ধে প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান ও কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন