মো:আমজাদ হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার:
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার পাহাড়ি দুর্গম এলাকায় প্রাকৃতিক ছড়ার স্বাভাবিক পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে অবৈধভাবে পাম্প স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে কবির স্টিল রি-রোলিং মিলস লিমিটেড (কেএসআরএম)-এর বিরুদ্ধে। এতে স্থানীয় হাজারো মানুষ চরম পানিসংকটে ও জনদুর্ভোগে পড়েছেন বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
সরেজমিনে ২৬ এপ্রিল ও ১ মে বড় কুমিরা মাজার গেইট এলাকার পাহাড়ি ছড়ার পাদদেশে গিয়ে দেখা যায়, ছড়ার বিভিন্ন স্থানে পাম্প বসানো হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। এতে ছড়ার স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়ে আশপাশের বসতবাড়ি ও কৃষিজমিতে পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগী বাসিন্দা ইকরামুল হক বলেন,
“এই পাহাড়ি ছড়ার পানি আমাদের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কৃষিকাজ থেকে শুরু করে রান্না, গোসলসহ সব নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে আমরা এই পানি ব্যবহার করি। অন্য কোনো বিকল্প পানির ব্যবস্থা নেই। ছড়ায় পাম্প বসানোর পর থেকে পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। বড় প্রতিষ্ঠান হওয়ায় ভয়ে অনেকেই মুখ খুলতে পারছেন না।”
স্থানীয় কৃষকরাও এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, ছড়ায় পাম্প স্থাপনের কারণে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সেচের পানির অভাবে জমিতে ফসল উৎপাদন হুমকির মুখে পড়েছে এবং ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এক কৃষক বলেন, “প্রতিদিনের কাজে পানি না পেয়ে আমরা চরম দুর্ভোগে আছি। এই অবস্থায় কৃষিকাজ চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে যাচ্ছে।”
তবে পাম্প স্থাপনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে কেএসআরএম কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠানের মিডিয়া ও যুগান্তর পত্রিকার রিপোর্টার মোঃ মিজান বলেন,
“পাম্পগুলো আমাদের নয়। এগুলো কারা বসিয়েছে তা আমাদের জানা নেই। এর বাইরে আমার আর কিছু বলার নেই। আপনারা আপনাদের মতো নিউজ করতে পারেন।”
অন্যদিকে স্থানীয় শ্রমিক ও একাংশ এলাকাবাসী দাবি করছেন, এসব পাম্প কেএসআরএম সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।
এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ফখরুল ইসলাম বলেন, “এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের জোর দাবি, দ্রুত তদন্ত করে পাহাড়ি ছড়ার স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা হোক এবং পানিসংকটে থাকা সাধারণ মানুষের স্বার্থে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
মন্তব্য করুন